পোর্টফোলিও হচ্ছে আপনার কাজের স্যাম্পল। আপনি কি কাজ করেন বা পারেন তার স্যাম্পল গুলো কোন একটা জায়গায় সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা। যাতে আপনি কি কাজ পারেন তা কেউ দেখতে চাইলে আপনি উনাকে আপনার পোর্টফোলিও দেখাতে পারেন। আমরা উদাহারনের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করি।

ধরুন, আপনি শার্ট কেনার জন্য দোকানে গেলেন। আপনি ফুটপাত বা ব্র্যান্ডের দোকানে যান, একটি জিনিস খেয়াল করে দেখবেন যে, দোকানে সারি সারি কাপড় সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা আছে। ওইটাই হচ্ছে অই দোকানের পোর্টফোলিও। আপনি ঘুরে ঘুরে শার্ট দেখলেন, পছন্দ করলেন, কিনে ফেললেন। বা আপনি একটি শার্ট পছন্দ করলেন কিন্তু দেখা গেলো সাইজে ছোট হচ্ছে। তখন দোকানের দায়িত্তরত কর্মচারী আপনাকে আপনার সাইজের বা পছন্দের কালারের শার্ট দিলেন। কারন তাদের স্টকে এইরকম এর শার্ট আছে। তাইলে আপনি ক্রেতা (ক্লায়েন্ট) হিসেবে খুশী হলেন এবং নিশ্চয়ই আবার আসবেন। কারন তাদের পোর্টফলিও আপনার ভাল্লাগসে। তাদের কাপরের অনেক বৈচিত্র্য আছে। যেহেতু দোকানে শার্টের পাশাপাশি পাঞ্জাবি, প্যান্ট আছে। আপনার হয়তো প্যান্ট বা পাঞ্জাবীও পছন্দ হয়ে যেতে পারে! এবং দেখা গেলো আপনি কিনে ফেলেন যা আপনার পরিকল্পনায় ছিল না!

এখন আমরা উল্টো চিন্তা করি, আপনি শার্ট কেনার জন্য দোকানে গেলেন। গিয়ে দেখলেন দোকান পুরো খালি আর একজন কর্মচারী ৩২ তা দাঁত বের করে বসে আছে! এখন সে যদি বলে, ‘স্যার, আমাদের কাপড় বিক্রি করার ৫ বছরের অভিজ্ঞতা আছে। আমরা প্রচুর ক্রেতার কাছে কাপড় বিক্রি করেছি, আমাদের কাপরের কোয়ালিটি ওয়ার্ল্ড ক্লাস! আমাদের একটা ২,০০০ টাকার শার্ট আছে যা পরলে আপনাকে সালমান খান, টম ক্রুজ এর মতো লাগবে

এখন আপনি ক্রেতা হিসেবে চিন্তা করেন, আপনি কি শার্টের স্যাম্পল না দেখেই শার্ট কিনার জন্য টাকা দিয়ে দিবেন? তাদের পুরো দোকান খালি। কিভাবে আপনি তাদের বিশ্বাস করবেন? যদি আপনি আপনি ক্লায়েন্টকে কাজের স্যাম্পল না দেখাতে পারেন তাইলে উনি কোন বিশ্বাসে আপনাকে কাজটা দিবে?

হতে পারে যাই করেন অই কাজে আপনি বস, আপনার অনেক অভিজ্ঞতা। কিন্তু কাজের স্যাম্পল না দেখাতে পারলে কেউ কাজ দিতে সাহস করবে না নিজে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করুন না

*** আগামী পর্বে পোর্টফলিও কিভাবে বানানো যায় ও কিভাবে সেলফ ব্র্যান্ড নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *